আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-: সামরিক এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়েমেনের আল-মাসিরাহ চ্যানেল জানিয়েছে, ইয়েমেন সেনাবাহিনীর স্নাইপার ইউনিটের সদস্যদের গুলিতে ৬৪ জন সৌদি সেনা নিহত হয়েছে। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনি স্নাইপাররা এ হামলা অব্যাহত রেখেছে। কারান, ফারিদ্বা, কারাস, ইবাদিয়া, দাবরা, মা’নাক ও ওয়াদি আল-মায়ায়েন সামরিক ঘাঁটিতে এ সকল সৈন্যরা নিহত হয়েছে।
এছাড়া গত মাসে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় নাজরান সেনা ঘাঁটিতে ৯ জন এবং আসির সেনা ঘাঁটিতে ৮ সৌদি সেনা নিহত হয়।
বৃহস্পতিবার সৌদি সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইয়েমেন সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছে অপর ৩ সৌদি সেনা।
এদিকে, গত কয়েক ঘন্টায় ৯ দফায় ইয়েমেনের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ তায়েজে’র কয়েকটি এলাকাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনের পদত্যাগকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দু রাব্বি মানসুর হাদি’কে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে এবং ইয়েমেনের গণ মুভমেন্ট আনসারুল্লাহকে দূর্বল করার লক্ষ্যে এ আগ্রাসন শুরু করে সৌদি আরব। অথচ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান গত মঙ্গলবার এক মন্তব্যে দাবী করেছেন যে, ‘আমরা কয়েকদিনেই সালেহ ও হুথিদেরকে নির্মূল করতে পারি’।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনের উপর সামরিক আগ্রাসন শুরু থেকে এ নাগাদ ১২ হাজারের বেশী লোক প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সৌদি আরবকে অস্ত্র সরবরাহ এবং আগ্রাসী সৈন্যদেরকে সামরিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে কার্যত ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের এ দূর্দশা ও বিপর্যয়কে এড়িয়ে যাচ্ছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ‘আদেল আল-জুবাইর’ গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৪ মে) জানান, তার মতে, এ যুদ্ধের প্রতি ওয়াশিংটনের সম্মতি, জানুয়ারি মাসে (২০১৭) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরুর সময় থেকে এ নাগাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।# প্রেসটিভি